18.3 C
Dinājpur
Sunday, December 4, 2022

জিরো ইনভেস্টমেন্ট থেকে লাখোপতি সেলার হাবিপ্রবির সুমন

অবশ্যই পরুন

মোঃ রুবাইয়াদ ইসলাম হাবিপ্রবি (দিনাজপুর):

করোনা মহামারী চলাকালীন সময়ে রংপুর বিভাগের সেরা উচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে খ্যাত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবির) শিক্ষার্থী মোঃ সুমন সরকার অনলাইনে লুঙ্গি ও তোয়ালে বিক্রি করার মাধ্যমে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তার সফল উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার গল্প লিখেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মোঃ রুবাইয়াদ ইসলাম।

মোঃ সুমন সরকারের কাছে তার উদ্যোক্তা হওয়ার প্রথম গল্পটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “করোনাকালীন সময়টা আমার জন্য ছিল খুব জটিল। বাসায় বসে থাকতে থাকতে ভাবলাম কিছু একটা করা উচিত। নিজের ছোট ছোট আবদার পূরণ করার জন্যে বাবা মায়ের কাছে আর কত হাত পেতে চাইবো; ভাবতেই লজ্জা লাগে। তাই চিন্তা করলাম নিজের খরচটা নিজে চালাতে হলেও কিছু একটা করা দরকার। তারপর স্টুডেন্টস ই-কমার্স প্লাটফর্ম (সেপ) এর মাধ্যমে আমার পথচলা শুরু।”

মোঃ সুমন সরকারের কাছে কিভাবে এতো দূরে আসতে পারার গল্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হওয়ায় গ্রুপের প্রতিটা পোষ্ট ফলো করতাম এবং বিজনেস রুলস দেখতাম। এছাড়াও সেলারদের পোষ্ট গুলো মনোযোগ দিয়ে পড়তাম। নিজেও অনেক বিষয় আয়ত্ব করার জন্য চেষ্টা করতাম। এভাবে নিজের মাঝে আগ্রহ তৈরী হতে থাকে, মনে হতো আমিও সবার মতো ভালো কিছু করতে পারবো। আর আমি আত্নবিশ্বাসী ছিলাম এই বলে যে, কোনো উদ্যোগ নিলে আমি সেটা জিরো থেকে শুরু করবো এবং সৎভাবেই পরিশ্রম করে উপার্জন করবো। শূণ্য পকেটে যাত্রা শুরু করে নিজের কিছু পুঁজি যোগানোর লক্ষ্য নিয়ে আমি এগিয়ে যাই। প্রথমে আমার এলাকার ঐতিহ্যবাহী গামছা, লুঙ্গি দিয়ে শুরু করেছিলাম। তাঁতী বাড়ির ছেলে হওয়ায় আমাদের বাসায় এবং আশেপাশে প্রচুর গামছা লুঙ্গি তৈরী হয়। এজন্য যে কোন জায়গা থেকেই আমি ছবি তুলে নিতে পারতাম। তারপর ছবিগুলো আমার পেজ এবং গ্রুপে পোষ্ট করতাম। আর অর্ডার আসলে কিছু লাভ রেখে বাসা থেকে বা অন্য কোথাও থেকে এনে কুরিয়ারে পাঠিয়ে দিতাম। এভাবে জিরো ইনভেস্টমেন্ট থেকে আমার বিজনেসের পথচলা শুরু হয়।”

মোঃ সুমন সরকার তার চ্যালেন্জ মোকাবেলা করার কথা জানান, “প্রথমে অনেকেই কটু কথা বললেও তাদের কথাগুলোকে তেমন একটা গুরুত্ব দেইনি। আবার নিজের বন্ধুরাও অনেক সময় অনুপ্রেরণা না দিয়ে বরংচ অনুৎসাহ দিয়েছে; তবুও হাল ছাড়িনি আমি। আমার নিজের মতো করে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষ আমার পাশে ছিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের পরিচিতজনদের থেকে আত্ববিশ্বাস পেয়েছি। তবে সর্বদাই আর সবচেয়ে বেশি পরিবারের সাপোর্ট ছিল। বাবা-মা আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন এবং বলেছেন ভালো কিছু করতে পারলে এগিয়ে যাও। আমিও তাদের কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে লেগে থাকি এবং এভাবে একটু একটু করে আমার পুঁজিও বাড়তে থাকে। তারপর এসব পণ্যের সাথে সাথে অন্য মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ তৈরী করে আরো বিভিন্ন পণ্য সেল করা শুরু করি। পাঞ্জাবী, শাড়ী, থ্রী পিচ, শার্ট ইত্যাদি নতুন নতুন কালেকশন আনতে থাকি। তারপর আমার কিছু পুঁজি হলে নিজেই স্টক করে সেল দিতে থাকি। এভাবেই আস্তে আস্তে আমার সৎ উদ্যোগ এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে স্টুডেন্টস ই-কমার্স প্লাটফর্ম থেকে মাত্র তিন মাসেই লাখপতি সেলার হয়ে যাই।”

মোঃ সুমন সরকারের কাছে কতোদূর আসছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্টুডেন্টস ই-কমার্স প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। গ্রুপটিতে এখন সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষ; আর লাখপতি সেলাররের সংখ্যাও প্রায় ৫০ জন। সকলের মতো আমিও আস্তে আস্তে গ্রুপটিতে পরিচিতি লাভ করতে থাকি। সৎ উদ্যোগ আর নিরলস পরিশ্রমে আমিও একজন লাখপতি সেলার এর সম্মাননা পেয়েছি। বিজনেসের সুবাদে আমার সুখ-Sukh নামে একটি অনলাইন পেজ আছে। এই পেজটিতে পরিচিত অপরিচিত অনেকেই যুক্ত হতে থাকে আর বর্তমানে আমার পেজের ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ২৫০০।”

মোঃ সুমন সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “সকলের উদ্দেশ্যে একটি কথাই বলবো, পড়াশোনার পাশাপাশি আত্ম উপলব্ধি থেকে নিজের হাত খরচটা অন্তত নিজে জোগাতে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।বিজনেস হোক বা যে কোন ভালো কাজে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হবার সামান্য প্রচেষ্টা আমাদের ছাত্র অবস্থাতেই করা দরকার।”

- Advertisement -spot_img

আরো নিবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ